আবু সাঈদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরা: দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত যশোর সাতক্ষীরা হয়ে শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত প্রস্তাবিত রেলপথ প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রত্যাশিত গুরুত্ব পায়নি। বাজেট ও পরিকল্পনা কমিশনের প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনায় প্রকল্পটির জন্য কোনো দৃশ্যমান বরাদ্দ মেলেনি। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সাতক্ষীরা জেলার সঙ্গে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সংযোগ স্থাপিত হওয়ার আশা থাকলেও এবারের বাজেটেও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা পাওয়া যায়নি।”
এঅঞ্চলে মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল যশোরের নাভারন থেকে সাতক্ষীরা হয়ে শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ। প্রস্তাবিত রেলপথ বাস্তবায়িত হলে সাতক্ষীরা প্রথমবারের মতো সরাসরি জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেত। এর আগে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয় এবং নাভারন, বাগআঁচড়া, কলারোয়া, সাতক্ষীরা, পারুলিয়া, কালীগঞ্জ, শ্যামনগর ও মুন্সীগঞ্জে স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এডিপির আকার প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা। এতে রেল, সড়ক, জ্বালানি ও অন্যান্য অবকাঠামো খাতে বড় প্রকল্পগুলো স্থান পেলেও যশোর সাতক্ষীরা মুন্সিীগঞ্জ রেলপথ প্রকল্পের কোনো পৃথক বরাদ্দ নেই।
সাতক্ষীরার ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, ভোমরা স্থলবন্দর, সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চল এবং কৃষি ও মৎস্যসম্পদসমৃদ্ধ এলাকাকে জাতীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে এ রেলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তব অগ্রগতি খুবই সীমিত। নতুন বাজেটে বরাদ্দ না থাকায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন আরও পিছিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, ভবিষ্যতে পৃথক উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে অনুমোদন পেলে কিংবা সংশোধিত এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বহু প্রতীক্ষিত এই রেলপথ নির্মাণের পথ সুগম হতে পারে। বর্তমানে প্রকল্পটির বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক নতুন কোনো বরাদ্দ বা বাস্তবায়ন সূচি ঘোষণা করা হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, মুন্সীগঞ্জ স্থলবন্দর ও সুন্দরবনসংলগ্ন পর্যটন এলাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপিত হলে বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে ব্যাপক গতি আসবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য ও মৎস্যসম্পদ পরিবহন সহজ হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং বাজারজাতকরণে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকার বাসিন্দা আকরাম, সামাদ, তাসলিমা জানান, বর্তমানে সড়কপথই একমাত্র ভরসা। রেললাইন নির্মিত হলে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে যশোর ইতোমধ্যে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। নতুন রেললাইন যুক্ত হলে সাতক্ষীরা ও উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও প্রসারিত হবে।
তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা আশা করছেন, নতুন বাজেটে প্রকল্পটির জন্য প্রাথমিক বরাদ্দ ঘোষণা করা হলে বহু বছরের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই জনপদ।
আবু সাইদ বিশ্বাস
ক্রাইম বার্তা