সাতক্ষীরার শহরের প্রাণকেন্দ্রে মডেল মসজিদ নির্মাণের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোটার: সাতক্ষীরা জেলা সদর (হেড কোয়ার্টার) এলাকায় নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের স্থান পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে জনগণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী স্থানে মডেল মসজিদ নির্মাণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল খালেকের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রীর পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল খালেক জানতে চান, সাতক্ষীরা জেলায় সরকার গৃহীত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় কতটি মডেল মসজিদ নির্মিত হয়েছে, কতটি নির্মাণাধীন রয়েছে এবং এসব প্রকল্পে মোট কত অর্থ ব্যয় হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় উন্নয়নে মন্দির নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য সরকারের কোনো প্রকল্প রয়েছে কি না, তাও জানতে চান তিনি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরা জেলায় এখন পর্যন্ত ৫টি মডেল মসজিদ নির্মিত হয়েছে এবং আরও ৩টি নির্মাণাধীন রয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ৯ হাজার ৮০১ দশমিক ১৮ লাখ টাকা।
তিনি আরও জানান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরা জেলার জন্য ৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে জেলার বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন করে মন্দির নির্মাণ বা সংস্কারের জন্য পৃথক কোনো বরাদ্দ বা প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা নেই।
পরে সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল খালেক বলেন, সাতক্ষীরা জেলা হেড কোয়ার্টারে একটি মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য স্থান নির্বাচন করা হয়েছে এবং জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু নির্বাচিত স্থানটি জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে এবং জনবসতিহীন এলাকায় হওয়ায় সেখানে নিয়মিত মুসল্লি সমাগম হবে না। তাই মসজিদটি জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে স্থানান্তরের বিষয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা জানতে চান তিনি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমি এই আশ্বাস দিতে পারি যে, মাননীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে, বিশেষ করে আপনার সঙ্গে আলোচনা করে জেলা পর্যায়ের মডেল মসজিদটি কোন স্থানে নির্মাণ করলে সকল জনগোষ্ঠীর জন্য সুবিধাজনক হবে, তা পূর্ণ বিবেচনা করে প্রয়োজন হলে পুনরায় ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করা হবে।”
এদিকে একই অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাস্তবায়িত মডেল মসজিদ প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, প্রকল্প ব্যয় ১৩ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১ কোটি টাকায় উন্নীত করার বিষয়টি অত্যন্ত গর্হিত ও ন্যক্কারজনক। ইসলামের নাম ব্যবহার করে যদি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকে, তবে প্রতিটি মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ ও ব্যয় পৃথকভাবে তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করা হবে।

আবু সাইদ বিশ্বাস
সাতক্ষীরা
১৩/৭/২৬

About news-admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *