কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: প্রাণ গেল সাতক্ষীরার সাজু-রেবতীর

কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: প্রাণ গেল সাতক্ষীরার সাজু-রেবতীর

 

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা:

ভারতের কলকাতায় আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার দুই বাসিন্দা। নিহতরা হলেন—কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত ইউনুস সরদারের ছোট ছেলে মো. আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) এবং একই ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকারের স্ত্রী রেবতী সরকার।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে তাদের মৃত্যুর খবর সাতক্ষীরায় পৌঁছালে দুই পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউমার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে মঙ্গলবার গভীর রাতে ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই সময় হোটেলে অন্তত ২৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক অবস্থান করছিলেন। আগুন ও ধোঁয়ার কারণে অনেকেই সময়মতো বের হতে পারেননি।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হোটেলের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি পুরো ভবন ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এতে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নিহত সাজু দীর্ঘদিন ধরে কোমরের তীব্র ব্যথায় ভুগছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য চার-পাঁচ দিন আগে তিনি ভারতে যান। চিকিৎসা শেষে বুধবারই দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু স্বজনদের কাছে ফেরার আগেই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান তিনি। অবিবাহিত সাজু এলাকায় সৎ, মিষ্টভাষী ও পরোপকারী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

অন্যদিকে, নিহত রেবতী সরকারের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে সন্তান, স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।

এ ঘটনায় সাতক্ষীরার এই দুই বাসিন্দা ছাড়াও কুষ্টিয়ার এক সংবাদকর্মী ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ মোট ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কায়সার আজিজ জানান, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোগাযোগ করেছেন। কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতদের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

 

আবু সাইদ বিশ্বাস

সাতক্ষীরা

২০/৮/২৬

About news-admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *