একই ব্যক্তির ছবি দিয়ে ৯৩ জাল এনআইডি, সিএসই শিক্ষার্থী হাতেনাতে ধরা

নাম, ঠিকানা ও জন্মতারিখ আলাদা হলেও একই ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে ৯৩টি জাল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির অভিযোগে নেত্রকোনার রবিউল ইসলাম ওরফে রনির (২১) নামে। অবশেষে তাকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেফতার রবিউল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গাংগাইর গ্রামে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকার দত্ত মার্কেটের একটি ভ্যারাইটিজ স্টোরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনে মামলা করা হয়। বুধবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই দোকানে ভুয়া এনআইডি প্রিন্ট করতে গেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল অভিযান চালিয়ে রবিউলকে হাতেনাতে আটক করে।

জেলা ডিবির এসআই হায়দার আলী রানাকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক দেবাংশু কুমার দেব জানান, রবিউলের কাছ থেকে তল্লাশি চালিয়ে ভিন্ন ভিন্ন নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ ও পরিচয় নম্বরযুক্ত সাতটি প্রিন্ট করা জাল এনআইডি উদ্ধার করা হয়।

এসব এনআইডিতে তথ্য আলাদা হলেও সবগুলোতেই একই ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু ছবিতে পরা শার্টের রঙে ভিন্নতা ছিল।

এ ছাড়া ছয়টি কাগজে এনআইডির পেছনের অংশ প্রিন্ট করা অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখানেও একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানা দেওয়া হয়েছিল।

পরে রবিউলের মুঠোফোন পরীক্ষা করে আরও ৮০টি জাল এনআইডির সফট কপি পাওয়া যায়। এসব কার্ডেও আলাদা পরিচয় নম্বর, নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল।

সব মিলিয়ে প্রিন্ট ও সফট কপি মিলিয়ে ৯৩টি জাল এনআইডির তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, রবিউলের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গাংগাইর গ্রামে। সম্প্রতি তিনি স্ত্রীকে দেখতে নেত্রকোনায় গিয়েছিলেন। সেখানেই ভুয়া এনআইডি তৈরির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়।

নেত্রকোনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন জানান, নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তির একাধিক এনআইডি করার সুযোগ নেই। তথ্যের পুনরাবৃত্তি হলে তা নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, অন্যের তথ্য বা ছবি বিকৃত করে ব্যবহার করা গুরুতর অপরাধ। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

About news-admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *