নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরায় শিবির কর্মীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ, বিএনপি-সংশ্লিষ্ট বলে দাবি পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরার বাশদহা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামারবায়শা গ্রামে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক কর্মীর ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই গ্রামের মতিউল্লাহ ও তাঁর চার ছেলে—মাসুম, ওসমান গণি, মাহবুব ও মাসুদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আহত মোহাম্মদ মেহেদী হাসান (পিতা: রফিকুল ইসলাম) বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবারের দাবি, তিনি ঢাকার তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন সাথী।
পরিবার ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে মেহেদী হাসান তাঁর বাবার বেকারির মালামাল বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলেন। কামারবায়শা গ্রামের একটি দোকানের সামনে পৌঁছালে মতিউল্লাহ ও তাঁর চার ছেলে তাঁর গতিরোধ করেন। অভিযোগ, পরে তাঁরা চাইনিজ কুড়াল, দা ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালান। এতে মেহেদীর মাথার ডান পাশে, হাতের আঙুল ও বাম পায়ে গুরুতর জখম হয়। হামলার সময় তাঁর কাছে থাকা বেকারির বিক্রির টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেহেদী হাসান বলেন, “আমি বাবার বেকারির মালামাল বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলাম। পথে কয়েকজন আমাকে ঘিরে ধরে চাইনিজ কুড়াল, দা ও লাঠি দিয়ে হামলা চালায়। মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত পাই। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি হই। আমি হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
আহতের বাবা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা। দীর্ঘদিন ধরে আমার ছেলেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ধর্মীয় একটি বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার পর থেকেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে আমাদের ধারণা। আজ পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলার সময় তার কাছে থাকা টাকাও পাওয়া যায়নি। আমি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আহতের ফুফু বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। কয়েকজন মিলে মেহেদীর ওপর চাইনিজ কুড়াল, দা ও লাঠি দিয়ে হামলা চালায়। আমরা এগিয়ে গেলে তারা ভয়ভীতি দেখায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মেহেদীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।”
পরিবারের দাবি, আহত মেহেদী হাসান জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং অভিযুক্ত মতিউল্লাহ ও তাঁর চার ছেলে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে এই রাজনৈতিক পরিচয় ও হামলার পেছনে রাজনৈতিক বিরোধের অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলার তদন্তের অগ্রগতি, অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সেগুলো পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
ক্রাইম বার্তা