সাতক্ষীরার ঘোনায় হামলার ৯ দিন পর রকিবের মৃত্য
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের শ্রীডাঙায় হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত আব্দুর রকিব ঝনু (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনার নয় দিন পর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু হয়।
নিহত রকিব ঝনু ঘোনা ইউনিয়নের শ্রীডাঙা গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুর রশিদের ছেলে।
পরিবারের অভিযোগ, গত ৮ আগস্ট রাত ৯টার দিকে স্থানীয় বিরোধের জের ধরে শ্রীডাঙার মোড়ে রকিবসহ কয়েকজনের ওপর হামলা হয়। এ সময় লোহার রডের আঘাতে রকিবের মাথায় গুরুতর জখম হয়। প্রথমে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন সন্ধ্যায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে রকিবের মৃত্যুর প্রায় আধা ঘণ্টা আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে হামলার ঘটনায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা করা হয়। ঘোনা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শাহীনুর রহমান লাল্টুর ভাই আশরাফুল আলম ডাবলু বাদী হয়ে সদর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় পশু চিকিৎসক ও ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হোসেনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত থাকলেও মামলায় তাদের নাম না থাকায় তারা আইনের আওতার বাইরে থেকে যেতে পারেন। তবে মামলার বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
নিহতের ভাই বেলাল হোসেন জানান, শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রকিবের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রাতে তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহামুদুর রহমান জানান, রকিবের ওপর হামলার ঘটনায় আশরাফুল আলম ডাবলু বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা চেষ্টা মামলা করেছেন। ভুক্তভোগীর মৃত্যুসংক্রান্ত কাগজপত্র পাওয়ার পর মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা সংযুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এরই জেরে ৮ আগস্ট রাতে শ্রীডাঙার মোড়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ইউপি সদস্য শাহীনুর রহমান লাল্টু, তার ছেলে নাজমুল, জাহাঙ্গীর আলম, সামছুর রহমান, আশরাফুল আলম ডাবলু, আব্দুর রকিব ঝনু ও খালিদ হোসেন আহত হন।
অন্যদিকে হামলার ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম বাপ্পি বাদী হয়ে ইউপি সদস্য শাহীনুর রহমান লাল্টু ও সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান মুসাসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। রকিবের মৃত্যুর পর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। হামলার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।
ক্রাইম বার্তা