ভারতে জাহাজডুবিতে নিখোঁজ সাতক্ষীরার মামুন: দুই সন্তানের বাবার জন্য নির্বাক প্রতীক্ষা

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রতিদিন সকাল, বিকেল কিংবা রাত! মায়ের মোবাইল ফোনটির দিকে বাবার কলের অপেক্ষায় থাকে পাঁচ বছরের মারিফুল জান্নাত। ফোন বাজলেই তিন বছরের ছোট ভাই মোয়াজ আব্দুল্লাহকে নিয়ে দৌড়ে যায় ফোনের কাছে। তারা জানে, সমুদ্র থেকে কাজের ফাঁকে ভিডিও কল দিয়ে কথা বলবেন বাবা। কিন্তু কয়েক দিন ধরে সেই ফোন আর বাজছে না। তারা শুধু জানে, বাবা হয়তো সমুদ্রের কাজে ব্যস্ত, তাই ফোন দিতে পারছেন না।

ভারতের উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘এমভি ওশান উইনার’ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ডুবে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন সাতক্ষীরার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

নিখোঁজ আব্দুল্লাহ আল মামুন সাতক্ষীরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলা এলাকার বাসিন্দা ডক্টর আব্দুর রহিমের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, গত বুধবার সবশেষ ফোনালাপ হয়েছিল মামুনের সঙ্গে। সেদিনও বাচ্চাদের খোঁজখবর নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শনিবার দুপুরে পরিচিতদের মাধ্যমে জাহাজে যান্ত্রিক গোলযোগ ও ডুবির খবর জানতে পারেন স্বজনেরা।

বাড়িতে এখন স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। সবার চোখে দুশ্চিন্তার ছাপ। তবে মামুনের দুই সন্তান এখনো বাবার কলের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে। মোবাইল বাজলেই তারা ভাবছে বাবার ফোন। মারিফুল মাঝে মাঝেই মাকে জিজ্ঞেস করছে, “মা, বাবা ফোন দিচ্ছে না কেন?” সন্তানদের এমন প্রশ্নে কথা বলতে পারছেন না মামুনের স্ত্রী।

নিখোঁজ ইঞ্জিনিয়ারের বাবা ডক্টর আব্দুর রহিম বলেন, ‘কাজের প্রয়োজনে ছেলে মাসের পর মাস সমুদ্রে থাকে। এই ফোন কলগুলোই ছিল যোগাযোগের মাধ্যম। জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর এত দিন পার হলো, অথচ ছেলে বেঁচে আছে কি না-সেই নিশ্চিত খবরটুকুও আমরা পাচ্ছি না। ফোন বাজলেই বাচ্চারা ছুটে যায়। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি, আমার ছেলের সঠিক খবর এনে দেওয়া হোক।’

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কায়সার আজিজ জানান, ঘটনাটি জানার পরই নিখোঁজ ইঞ্জিনিয়ারের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের উদ্ধারকারী দল ও কূটনৈতিক পর্যায়ে সার্বিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে মামুনের তথ্য পরিবারকে জানানোর চেষ্টা চলছে।

About news-admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *