সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বাঁধ রক্ষার সরকারি বালুর বস্তা চুরি আটক যুবদল নেতাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

ক্রাইমবাতা রিপোট:   আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট গ্রামের ৭৫নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ওয়াপদা বেড়িবাঁধে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী নাজমুল হোসেন সরেজমিন পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার ৫০০ বালুর বস্তা ডাম্পিংয়ের নির্দেশ দেন। এরই মধ্যে বাঁধ রক্ষার জন্য রাখা সরকারি বালুর বস্তা চুরির অভিযোগ উঠেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো’র) ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট অনুপ কুমার জানান, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে আব্দুর রশিদ গাজীর বাড়িতে রাখা বালুর বস্তা ট্রলারে করে সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়রা কয়েকজনকে দেখতে পান। এ সময় স্থানীয় যুবদল নেতা খায়রুল ইসলামকে আটক করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১ হাজার ২০০ বস্তা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ বস্তা চুরি হয়ে গেছে। চুরি যাওয়া বস্তার আনুমানিক মূল্য ৬০ হাজার টাকা। প্রায় ৯০০ বস্তা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শ্রমিক লেবার সরদার,গাবুরা গ্রামের বিল্লাল গাজীর ছেলে মেহেদী হাসান জানান, একটি ট্রলারে করে বস্তাগুলো খেয়াঘাটের পাশে ফ্রেন্ডশিপের কেওড়া বাগানে রাখা হয়। পরে অন্য একটি ট্রলারে তোলার সময় রাত আড়াইটার দিকে খায়রুলকে আটক করা হয়। স্থানীয়দের দাবি,ও ই ট্রলারটি জেলেপাড়ার নিমাইয়ের। আটক খায়রুল দাবি করেন,তিনি ও সোহরাব বস্তাগুলো নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে তিনি ভুল করেছেন বলে স্বীকার করে নিজেকে এ ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে বলেও দাবি করেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এ ঘটনায় সোহরাব পালিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরির সঙ্গে জড়িত। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস বলেন, “সরকারি বালুর বস্তা চুরির বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। কোনো অভিযোগও পাইনি। তবে মোবাইলে ভিডিও দেখেছি এবং লোকমুখে শুনেছি।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইএসডিও রশিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আশাশুনি থানার ওসি জাহাঙ্গীর আরিফ বলেন,“চুরির বিষয়টি আমার জানা নেই।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন,“বস্তা চুরির বিষয়টি আমার জানা নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানান। আমিও তাদের সঙ্গে কথা বলছি।”
এদিকে, বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বাঁধের ভাঙন দ্রুত মেরামত করা না হলে জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। উদ্ধার হওয়া বালুর বস্তা দ্রুত বাঁধ রক্ষার কাজে ব্যবহার এবং চুরির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আবু সাইদ বিশ্বাস
সাতক্ষীরা
৬/৯/২৬

About news-admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *