সাতক্ষীরা সংবাদদাতা:
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মরদেহ দাফনের জন্য তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরায় নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা থেকে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে গাবুরার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এদিকে বাড়িতে মরিয়মের দাফনের জন্য কবর খোঁড়ার কাজ শেষ হয়েছে। চলছে দাফনের অন্যান্য প্রস্তুতিও।
মরিয়মের চাচি মুন্নী আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা ঢাকা থেকে গাবুরার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।
মরিয়মের স্বজনেরা জানান, তিনি শান্ত ও শিষ্ট স্বভাবের ছিলেন। তাঁর এমন মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মুন্নী আক্তার বলেন, ‘মরিয়ম খুব শান্ত-শিষ্ট মেয়ে ছিল। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, আমরা জানি না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
এদিকে মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সোমবার শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পরে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
বিক্ষোভে স্থানীয় নাগরিক নেতা আসাদুজ্জামান মিটু, আবুল কালাম মড়ল, রেজাউল ইসলাম, আসিসুর রহমান, নূরনগরের আবুল ইউসুফসহ বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা না দিয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানান। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তাঁরা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী গাজী নজরুল ইসলামের সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসির দাবিও জানান। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কারও দায়-দায়িত্ব তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।
গাজী নজরুল ইসলামের বাড়ির পাশের বাসিন্দা ও সাবেক জামায়াত কর্মী মো. শাহজাহান বলেন, ‘মরিয়মের মৃত্যুর বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে।’
স্থানীয় কলেজশিক্ষার্থী মিনারুলসহ কয়েকজন প্রতিবেশীও মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও শ্যালক ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে।
সোমবার বিকেলে মরিয়মের মরদেহ গাবুরার উদ্দেশে রওনা হলেও দাফনের সময় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। বাড়িতে এরই মধ্যে কবর প্রস্তুত করা হয়েছে।
—
আবু সাইদ বিশ্বাস
সাতক্ষীরা
০১৭১২৩৩৩২৯৯
ক্রাইম বার্তা