আবু সাইদ বিশ্বাস: দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর নতুন করে চাপে পড়েছেন সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নিম্নআয়, শ্রমজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পরিবারগুলোর জন্য সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধি ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে। নতুন দরে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে ডিজেল ১৩৫, পেট্রোল ১৬০, অকটেন ১৬৫ ও কেরোসিন ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে জেলার প্রায় ২২ লাখ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে বাস, ট্রাক, পিকআপ ও থ্রি-হুইলারসহ ডিজেলচালিত যানবাহনের পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। এরই মধ্যে দূরপাল্লার বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা এবং শহরে ১৮ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে কোথাও কোথাও এর আগেই বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে সাতক্ষীরা থেকে রাজধানী ও আন্তঃজেলা যাতায়াতে সাধারণ যাত্রীদের বাড়তি ব্যয় বহনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সাতক্ষীরা বড়বাজারের ব্যবসায়ী হাফিজুল ইসলাম বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়বে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামে পড়বে। এ সুযোগে অসাধু ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা করতে পারে।”
ক্রেতাদের কয়েকজন বলেন, আয় না বাড়লেও প্রতিনিয়ত বাড়ছে সংসারের খরচ। তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ব্যবসায়ীরা যাতে ইচ্ছামতো পণ্যের দাম বাড়াতে না পারেন, সেজন্য বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানান তাঁরা।
দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের আয়ের বড় অংশ খাবার, যাতায়াত ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়। পরিবহন ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে তাদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা আরও কমে যাবে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন ও পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়লে এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়েও পড়তে পারে।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, “বিশেষ করে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে পরিবহন ভাড়া, কৃষি উৎপাদন, পণ্য পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ছে। ফলে বাজারে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। জনগণের স্বার্থে এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।”
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে গণপরিবহন ও নিত্যপণ্যের দাম যাতে অযৌক্তিকভাবে না বাড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে। সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন।”
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু পরিবহনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। কৃষি, পণ্য সরবরাহ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও নিত্যপণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই সাতক্ষীরায় বাজার নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ভাড়া তদারকি এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
অযৌক্তিক পরিবহন ও পণ্যমূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা, জ্বালানি মূল্যে স্বচ্ছতা এবং বাজারে সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্রাইম বার্তা