আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় ৫০ মিটার বেড়িবাঁধের বড় অংশ নদীতে ধসে গেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে আকস্মিক এ ভাঙন দেখা দেয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না গেলে প্রতাপনগর ইউনিয়নের ১৪টি মৌজার প্রায় ৬ হাজার বিঘা মাছের ঘের ও ফসলি জমি প্লাবিত হতে পারে। একই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ভাঙনের পর স্থানীয়রা বাঁধ রক্ষায় কাজ শুরু করেন। পাউবোর উদ্যোগে বাঁশের পাইলিং এবং জিও ব্যাগে মাটি ভরে ভাঙনস্থলে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে পাউবোর প্রায় চার শতাধিক কর্মী এ কাজে অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা রিয়াছাত আলী বলেন, ভাঙনস্থলটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বাঁধের অবশিষ্ট অংশও নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ভাঙনের খবর পেয়ে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় পাউবোর এসডিই রাশেদুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার বলেন, বাঁধের এ ভাঙন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত ভাঙন রোধ করে এলাকার মানুষের জানমাল, মাছের ঘের ও ফসলি জমি রক্ষা করতে হবে। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাঁধের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। পাউবোর এসডিই রাশেদুজ্জামান বলেন, “সকাল ৮টা থেকে ভাঙন রোধে কাজ চলছে। তাৎক্ষণিকভাবে বাঁশের পাইলিং করে জিও ব্যাগে মাটি ভরে ডাম্পিং করা হচ্ছে। যত রাতই হোক, কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে।” আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ড বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করার জন্য জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তারা দ্রুত কাজ শুরু করবে। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য রওনা হয়েছি। আনুমানিক ৫০ মিটারের মতো বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”
আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরা, ২৮/৯/২৬
ক্রাইম বার্তা