# কলারোয়ায় তেল মজুদের অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা
# জ্বালানি তেল মজুতদারির তথ্য দিলে মিলবে পুরস্কার
আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরাসহ সারা দেশে পেট্রোলপাম্পে তেল সংকট দেখা দিয়েছে। তেল নিতে গেলেই অধিকাংশ পাম্প মালিকরা বলছে তেল নেই। আর যে পাম্পে তেল আছে সেখানে দেখা যাচ্ছে লম্বা লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি সমাধান করার জন্য সরকার সব গাড়ির জন্য ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর চিন্তাভাবনা করছে। এ জন্য কাজও শুরু করেছে জ্বালানি বিভাগ। এদিকে সাতক্ষীরাতে ঝুঁকি এড়াতে কয়েকটি পেট্রোলপাম্পে মটরসাইকেলে তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। ২৭ মার্চ রাত ৮টার দিকে সাতক্ষীরা কলারোয়া সড়কের ছয়ঘরিয়া এলাকায় মের্সস লস্কর ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে বিক্ষুদ্ধ জনতা সড়কে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে কর্তৃপক্ষ আবারও তেল দিতে শুরু করলে বিক্ষুদ্ধ জনতা সড়ক থেকে উঠে আসে।
এদিকে ২৭ মার্চ শুক্রুবার সাতক্ষীরা কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও খুচরা দোকানে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহেদ হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে তেলের মজুদ ও বিক্রয় তদারকি করা হয়। জেলা প্রশাসন জানায়, এ সময় মেসার্স হোসেন, মেসার্স ইউরেকা, মেসার্স ডেলমা ও মেসার্স সোনিয়া ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের লম্বা লাইন পরিলক্ষিত হয়। সবাইকে মোটরসাইকেলের লাইসেন্স, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট পরিহিত অবস্থায় চাহিদা মোতাবেক পেট্রোল দেয়া হচ্ছে কি না তা দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে অকটেনের সরবরাহ দেখা যায়নি। তদারকির সময় রিজার্ভ ট্যাংক, সরবরাহ চালান এবং বিক্রয় ও মজুদ রেজিস্ট্রার চেক করা হয়। এসময় চন্দনপুর ইউনিয়ন, কলারোয়া উপজেলায় লাইসেন্সবিহীন জ্বালানি তেলের মজুদ এবং খোলা বাজারে তেল সরবরাহ করায় পেট্রোলিয়াম আইন,২০১৬ অনুযায়ী একটি মামলায় ১০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালীন মুদি দোকানী, খোলা বাজারে তেল বিক্রেতাকে এবং জনসাধারণকে অতিরিক্ত তেল মজুদ এবং লাইসেন্সবিহীন খোলা বাজারে তেল বিক্রি করা অপরাধ সেই বিষয়টি অবগত করা হয়। সরকারি আইনানুযায়ী ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করা হয়।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শিগগির শেষ না হলে বাংলাদেশের মতো দেশকে অনেক খেসারত দিতে হবে। কারণ বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে আসবে এবং তেলের জন্য অনেক মূল্য দিতে হবে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ দাম বাড়াতে পারবে না। তাই তেলের অপচয় এবং মজুত রোধে ফুয়েল কার্ড চালুর বিকল্প নেই। সেই কার্ড দিয়ে মোটরসাইকেল, কার, ট্রাক বা বাস তার পরিবহণের চাহিদা অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করতে পারবে। তবে এ জন্য থাকবে একটি কিউআর কোড। সেই কোড দিয়ে নির্দিষ্ট পাম্প থেকে তেল নেওয়া যাবে। তবে এটি চালু করতে সময় লাগবে। ফুয়েল কার্ড বা ফ্লিটকার্ড হলো- পেট্রোল, ডিজেল বা অন্যান্য জ্বালানি কেনার জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ পেমেন্ট কার্ড, যা সাধারণত কোম্পানি বা গাড়ির মালিকরা ব্যবহার করে থাকেন। এটি ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মতো কাজ করে এবং এর মাধ্যমে জ্বালানি খরচ ট্র্যাকিং, নিয়ন্ত্রণ এবং নগদবিহীন লেনদেনের সুবিধা পাওয়া যায়।
ফুয়েল কার্ডের মূল বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা:সহজ পেমেন্ট ও ট্র্যাকিং, এটি ব্যবহার করে চালকরা সহজেই ফিলিং স্টেশনে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন এবং প্রতিটি লেনদেনের রেকর্ড রাখা যায়। কোম্পানিগুলো এই কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি ক্রয়ের সীমা নির্ধারণ করে দিতে পারে। এটি ডিজিটালভাবে জ্বালানি ব্যবহারের বিস্তারিত রিপোর্ট প্রদান করে। কার্ডটি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট গাড়ি বা চালকের সঙ্গে যুক্ত থাকে, যা চুরি বা অপব্যবহার রোধ করে।সময়ের সাশ্রয়: কাগজের রসিদ জমানোর ঝামেলা কমে এবং এককালীন চালান পাওয়ার ব্যবস্থা থাকে।
এদিকে দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এখন থেকে জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত করার সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করা হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক বার্তার মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ তদারকি করতে ইতিমধ্যে দেশের সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। অবৈধ মজুতদারি বন্ধে যারা তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন, তাদের জন্য দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারের ঘোষণা আসতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে সচেতন নাগরিকদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও পরামর্শ প্রদানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
ক্রাইম বার্তা