ঈমান, আদর্শ ও নেতৃত্বের অনন্য প্রতীক কাজী শামসুর রহমান
ঈমানের দৃঢ়তা, আদর্শিক নেতৃত্ব, শিক্ষকতা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী সাতক্ষীরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শামসুর রহমান ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের এক নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ও বিশিষ্ট দাঈ ইলাল্লাহ। বিশ্বাস, চরিত্র ও কর্মে তিনি ছিলেন আদর্শের এক অনুপম উদাহরণ।
১৯৩৭ সালের ১ জানুয়ারি সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণকারী কাজী শামসুর রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি সাতক্ষীরা-২ আসন থেকে ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের ৭ মে থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত, ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এবং ১৯৯৬ সালের ১২ জুন থেকে ২০০১ সালের ১ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দ্বীনের প্রতি গভীর অনুরাগ ও আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ ঈমান ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক ও নৈকট্য অর্জনের সাধনা, তাকওয়া ও তাওয়াককুলকে জীবনের মূল সম্পদ হিসেবে ধারণ করে তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। দুনিয়ার মোহ-মায়া ও নানা প্রলোভন উপেক্ষা করে আখিরাতমুখী জীবনযাপন ছিল তাঁর আদর্শের অন্যতম দিক।
শিক্ষকতা জীবনে কাজী শামসুর রহমান ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক ও মানুষ গড়ার কারিগর। শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগের পাশাপাশি তিনি সমাজে নৈতিকতা, আদর্শ ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সদাহাস্য, সুদর্শন ও দীর্ঘদেহী এই নেতা মানুষের সঙ্গে সহজেই আপন হয়ে যেতে পারতেন। তাঁর ইলম, আমল, ব্যক্তিত্ব ও দাওয়াতি কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে অসংখ্য মানুষ ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন বলে তাঁর অনুসারীরা মনে করেন।
সাতক্ষীরার রাজনৈতিক অঙ্গনে কাজী শামসুর রহমান ছিলেন একজন জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী নেতা। ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে সাতক্ষীরা-২ আসন থেকে বিজয়ী হন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল আদর্শ, নীতি ও ইসলামী মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে পরিচালিত।
পরিবার, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও অনুসারীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবন ও কর্ম আজও সাতক্ষীরার মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে।
২০০৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে ঈমান, আদর্শ, শিক্ষা, নেতৃত্ব ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত তাঁর জীবন আজও অনুসারীদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।
‘আমি দুনিয়া চাই না, আমি আখিরাত চাই’—এই জীবনাদর্শকে ধারণ করে কাজী শামসুর রহমান তাঁর জীবন পরিচালনা করেছেন বলে তাঁর অনুসারীরা মনে করেন। ঈমানের শক্তিতে সমৃদ্ধ এই মহান নেতার জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
চাইলে এটিকে আমি আরও �সংবাদপত্রের শোকস্মরণ/স্মরণিকা, �ফেসবুক পোস্ট, অথবা �আরও আবেগঘন স্মৃতিচারণমূলক প্রতিবেদন আকারেও সাজিয়ে দিতে পারি।
ক্রাইম বার্তা