জামায়াত এমপির ভাইরাল ভিডিও নিয়ে এবার প্রথম স্ত্রীর ভিডিওবার্তা
সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় বিয়ের দাবি স্বীকার, কুৎসা রটালে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে এবার মুখ খুলেছেন তার প্রথম স্ত্রী মোছাম্মৎ মাকছুদা বেগম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক ভিডিওবার্তায় তিনি স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করে কুৎসা রটানোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ভিডিওবার্তায় মাকছুদা বেগম বলেন, “আমি মাকছুদা ইসলাম। আমার স্বামী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়ম বেগমের বিবাহ হয়েছে। এটা নিয়ে যারা কুৎসা রটাচ্ছে, তাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এ ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত না থাকলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।”
এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে এক নারীর সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গ অবস্থায়’ দেখা যায় বলে দাবি করা হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনার পর লিখিত বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোছাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।
বিবৃতিতে তিনি আরও দাবি করেন, অবস্থানকালে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ সুকৌশলে ৬-৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে ওই কার্যালয়ে প্রবেশের সুযোগ করে দেন। পরে তারা কক্ষে ঢুকে এমপি ও তার পরিবারের সদস্যদের পরিচয় জানতে চেয়ে হেনস্তা করেন। একপর্যায়ে তাদের নিচে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কিছু টাকা দেওয়ার পর তারা সেখান থেকে মুক্তি পান বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
গাজী নজরুল ইসলামের দাবি, পরে তিনি জানতে পারেন—ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তার গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ, যিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা। পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ওই ঘটনার সূত্রপাত বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে ওবায়দুল্লাহ তার কাছে ৫ লাখ টাকা এবং মো. মাসুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়।
দাবিকৃত টাকা না পেয়ে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলেও দাবি করেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম।
তিনি ঘটনাটিকে ‘সাজানো’ ও তার এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘চরিত্র হননের অপচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
ক্রাইম বার্তা