যশোর-৪ আসনে এমপির বাড়ির ঘটনায় উসকানি দাতা এরা কারা

যশোর-৪ আসনে এমপির বাড়ির ঘটনায় উসকানি দাতা এরা কারা

যশোর সংবাদদাতা : যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাড়িকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনায় নানা ধরনের বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে শনিবার (২ আগস্ট) সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটির পেছনে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।
স্থানীয় একাধিক স্থায়ী বাসিন্দার দাবি, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যেসব ব্যক্তি মিডিয়ার সামনে বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের অনেকেই ওই এলাকার বাসিন্দা নন। তাদের মধ্যে কয়েকজন নূরানী মাদরাসার শিক্ষক, যারা যশোরের বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত। স্থানীয়দের প্রশ্ন, তারা কীভাবে ঘটনাস্থলে এসে এত দ্রুত এমপির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিলেন এবং এর পেছনে কারা তাদের সক্রিয় করেছিলেন এ বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এমপির বাড়ির সামনের একটি দেওবন্দি ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক যশোরের বিভিন্ন স্থান থেকে আলেম ও নূরানী শিক্ষকদের খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন। পরে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের কিছু কর্মীও সেখানে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তবে সমালোচনাকারীদের অনেকেই ঘটনার প্রকৃত পটভূমি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
তাদের ভাষ্য, এমপি অধ্যাপক গোলাম রসুলের মেয়ে অনন্যা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। ওই বাস্তবতা না জেনেই তার আচরণকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আলোচনার সময় চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য ও অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনার পর অনন্যার মানসিক অসুস্থতার বিষয়টি স্পষ্ট হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
তবে আলোচনার পরও কয়েকজন শিক্ষক জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে পুনরায় হট্টগোল সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সমঝোতার পথ তৈরি হওয়ার পরও কেন উত্তেজনা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হলো? তাদের মতে, বিষয়টি শুধুমাত্র ভুল বোঝাবুঝির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য কাজ করেছে তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, আমার কাছে সব দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমানভাবে সম্মানিত। এসব প্রতিষ্ঠানে আমাদের সন্তানরাও পড়াশোনা করে। তাই কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমার ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা বিরূপ মনোভাব নেই।
তিনি আরও বলেন, আমি যশোর-৪ আসনের সব মানুষের প্রতিনিধি। তিনি জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, বিএনপি কিংবা অন্য যে কোনো দলের হোন না কেন সবাই আমার কাছে সমান। আমার বিরুদ্ধে যারা সমালোচনা করেছেন, তারা সম্ভবত ঘটনার প্রকৃত বিষয়টি জানতেন না। পুরো বিষয়টি আগে জেনে নিলে হয়তো এমন মন্তব্য করতেন না।
মুড়লী নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষক হাদিউজ্জামান হাদী বলেন , এমপি অধ্যাপক গোলাম রসুলের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মাদ্রাসার শিক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দিয়েছিলেন। প্রকৃত ঘটনা আসলে আমি জানতাম না। এটি আসলে আমার ভুল হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সংবেদনশীল কোনো ঘটনা নিয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া বক্তব্য দেওয়া সমাজে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তারা এ ধরনের ঘটনায় গুজব বা আবেগ নয়, বরং তথ্যভিত্তিক অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।###

আজিজুর রহমান মশিউর
দৈনিক সংগ্রাম
যশোর জেলা প্রতিনিধি
০১৭১৩৯১০৩২৭

About news-admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *