মৃত্যুর দুই দিন পর এসএসসিতে শিহাবের জিপিএ-৫

ফল প্রকাশের দিনটি হওয়ার কথা ছিল আনন্দের। সন্তান ভালো ফল করবে—এই আশায় অপেক্ষায় ছিলেন বাবা-মা। কিন্তু ফল প্রকাশের মাত্র দুই দিন আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে না ফেরার দেশে চলে যায় শিহাব। সোমবার প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সেই শিহাবই পেয়েছে গোল্ডেন জিপিএ-৫।

ছেলের এমন সাফল্যের খবর পরিবারের কাছে এখন আনন্দের চেয়ে বেদনারই বেশি। যে ছেলে নিজের হাতে ফলাফলের খবর জানাবে, বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাবে, সেই একমাত্র সন্তানই আজ নেই। ঘরে পড়ে আছে তার বই-খাতা, স্মৃতি আর অপূরণীয় শূন্যতা।

নিহত শিহাব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মানুরা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। সে ঢাকার বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের মাত্র দুই দিন আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় শিহাব। আকস্মিক এ ঘটনায় স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। এর মধ্যেই সোমবার প্রকাশিত হয় এসএসসির ফলাফল। এতে শিহাব গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

শিহাবের ফলাফলের খবর জানার পর স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে তার কৃতিত্ব নিয়ে গর্ব তৈরি হলেও অকালমৃত্যুর বেদনা আরও গভীর হয়েছে। সহপাঠীদের কাছেও দিনটি হয়ে উঠেছে আনন্দ-বেদনার মিশ্র অনুভূতির। ফল হাতে পাওয়ার পর যেখানে বন্ধুর সঙ্গে সাফল্য ভাগ করে নেওয়ার কথা ছিল, সেখানে শিহাবের জায়গাটি আজ শূন্য।

শিহাবের চাচা তাজুল ইসলাম বলেন, চাকরির কারণে শিহাবের পরিবার ঢাকায় থাকত। চাচার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তারা গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। শিহাব ছিল তার বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। তার দুটি ছোট বোন রয়েছে।

শশীদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রিয়াদ বলেন, চাচার বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে শিহাবের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এর মধ্যে আজ এসএসসির ফল প্রকাশ হয়েছে। শিহাব গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি এখন শোকাহত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নি ইসলাম বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমরা পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

About news-admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *