মুঠোফোনে বাগ্বিতণ্ডা ও গালিগালাজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের মুজিব সড়কে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ধানবান্ধি ও ভাঙ্গাবাড়ি মহল্লার কিছু বাসিন্দার মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। লাঠিসোঁটা নিয়ে উভয়পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।
সংঘর্ষের সময় সড়কে রণক্ষেত্র তৈরি হওয়ায় শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় বেশ কিছু দোকানপাট। আহতদের সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর এক সমর্থক পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে মুঠোফোনে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে দুপুরে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন সানুর সমর্থকরা ধানবান্ধি এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
মিছিলটি শহরের ইলিয়ট ব্রিজ পার হয়ে চৌরাস্তা হয়ে মুজিব সড়কে প্রবেশ করলে অপর পক্ষের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি অবস্থান হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সান্তু, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজরান রউফ এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ পৃথক পৃথক দলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের ভাষ্য, এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং আসন্ন সিরাজগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সাইদুর রহমান বাচ্চু ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাজী আব্দুস সাত্তারের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে। এরই মধ্যে ব্যক্তিগত একটি বিরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবারের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তবে রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক কাউন্সিলর হাজী আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, ‘পুরোপুরি একটি ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সংঘর্ষ ঘটেছে। এর সঙ্গে আমার কোনো ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি আমার বালু ব্যবসা কিংবা আগামীতে পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতার বিষয়টির সঙ্গেও এর কোনো যোগসূত্র নেই। প্রতিপক্ষ হয়তো বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নিতে রংচং মাখাচ্ছে। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ তাদের ব্যক্তিগত বিষয়।’
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ক্রাইম বার্তা