সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আ ফ ম রুহুল হক ও তাঁর ছেলে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আজ বুধবার দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

দুদক সূত্রে জানা যায়, তাদের অনুসন্ধানে রুহুল হকের নামে ৩৯ কোটি ৩০ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের মূল্য ৮ কোটি ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৮৬২ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩০ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৩ টাকা। এ ছাড়া তাঁর পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া গেছে ৫ কোটি ৭২ লাখ ৭২ হাজার ১১২ টাকা।

সব মিলিয়ে রুহুল হকের নিট সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫ কোটি ৩ লাখ ২৫ হাজার ৭৫৭ টাকা। এর বিপরীতে তাঁর নামে গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ২৫ কোটি ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩৭ টাকা। অর্থাৎ তাঁর নামে ১৯ কোটি ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ২০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পেয়েছে দুদক।

এ ছাড়া রুহুল হকের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালিত ৩৯টি হিসাবে ৬৪ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার ৮৭৯ টাকা জমা এবং ৫১ কোটি ৪৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৮০ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে মোট ১১৬ কোটি ২০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৫৯ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। বর্তমানে হিসাবগুলোতে ১৩ কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৯৯ টাকা স্থিতি রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, এসব অর্থের বৈধ উৎসের তথ্য পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বারবার অর্থ জমা ও উত্তোলনের মাধ্যমে লেনদেনের স্তর তৈরি করে অর্থের উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রুহুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারায় মামলা করেছে কমিশন।

অন্যদিকে রুহুল হকের ছেলে জিয়াউল হকের নামে ১৯ কোটি ৭৩ লাখ ৪০ হাজার ৮৪৩ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদ ২ কোটি ৪ লাখ ৫১ হাজার ৪৫০ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ ১৭ কোটি ৬৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩৯৩ টাকা। তাঁর পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া গেছে ৫ কোটি ৪২ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৫ টাকা।

দুদক জানায়, ব্যয়সহ জিয়াউল হকের নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৪৫৮ টাকা। তাঁর নামে গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ১৬ কোটি ৬৩ লাখ ৫ হাজার ৬৩৮ টাকা। এতে ৮ কোটি ৫২ লাখ ৮৪ হাজার ৮২০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পেয়েছে দুদক।

জিয়াউল হকের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালিত ১৫টি হিসাবে ১৭ কোটি ৮৭ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৭ টাকা জমা এবং ১৫ কোটি ৯৭ লাখ ১ হাজার ৪৭৬ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট ৩৩ কোটি ৮৪ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে এসব হিসাবে ১ কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার ৩৬১ টাকা স্থিতি রয়েছে।

দুদকের অভিযোগ, জিয়াউল হকও অর্থের বৈধ উৎসের তথ্য দিতে পারেননি। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা ও উত্তোলনের মাধ্যমে লেনদেনের স্তর তৈরি করে অর্থের উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় মামলা করেছে দুদক।

About news-admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *