#মাটির পণ্যে সাতক্ষীরায় সাড়া ফেলেছে ‘কুঠির’
#ঐতিহ্য আর পরিবেশ সুরক্ষার মেলবন্ধন, সাতক্ষীরায় ‘কুঠির’
#প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে সাতক্ষীরায় ‘কুঠির’-এর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরা: প্লাস্টিকের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ও পরিবেশদূষণ কমাতে পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রসারে কাজ করছে সাতক্ষীরা শহরের প্রতিষ্ঠান ‘কুঠির’। মাটির তৈরি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, সৌখিন পণ্যসহ কাঠ ও পাটের তৈরি বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ক্রেতাদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের প্রসার এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠা এ উদ্যোগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষও।
সাতক্ষীরা শহরের মুনশিপাড়া জামে মসজিদের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ‘কুঠির’। গত ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। উদ্বোধনের পর থেকেই মাটির তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
সম্প্রতি অনলাইনে ‘কুঠির’-এর বিষয়ে জানতে পেরে শ্যামনগর উপজেলা থেকে পণ্য দেখতে আসেন মোহাম্মদ সিদ্দিক হোসেন। তিনি বলেন, “অনলাইনে ‘কুঠির’-এর বিষয়ে দেখার পর এখানে এসেছি। এসে খুবই ভালো লেগেছে। মাটির পণ্যসহ পরিবেশবান্ধব সামগ্রীর ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই।”
সাতক্ষীরা শহরের মুনশিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাশরুফা বলেন, “মাটির জিনিসপত্র আমার খুব পছন্দ। উপহারসামগ্রী কেনার জন্য এখানে এসেছি। ‘কুঠির’-এর উদ্বোধনের দিনও এসেছিলাম। এরপরও কয়েকবার এসেছি। এখানকার পণ্য আমার ভালো লাগে, তাই প্রায়ই এখান থেকে কেনাকাটা করি।”
প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম উদ্যোক্তা সাকিব জামান বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি ব্যবসা গড়ে তোলা, যার মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হবে এবং একই সঙ্গে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ তৈরি হবে। সেই চিন্তা থেকেই আমরা মাটির পণ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছি। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে মানুষকে পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং মৃৎশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখাই আমাদের লক্ষ্য।” তিনি জানান, ব্যবসা শুরুর আগে যতটা সাড়া পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল, বাস্তবে তার চেয়ে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন ক্রেতারা। এতে ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা দেখছেন তাঁরা।
‘কুঠির’-এর দুই অংশীদার সাকিব জামান ও আবিদ হাসান। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রতিষ্ঠানটি একসময় শুধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, পরিবেশ সুরক্ষা, স্থানীয় উৎপাদন এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের প্রসারেও পরিচিতি লাভ করবে।
এদিকে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. আবদুল্লাহ হারুন ‘কুঠির’ পরিদর্শনে এসে মাটির তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী কেনেন। এ সময় তিনি পরিবেশদূষণ কমানো, প্লাস্টিকের বিকল্প পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের প্রসারে এ ধরনের উদ্যোগওক স্বাগত জানান। তিনি বলেন, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের পরিবর্তে টেকসই বিকল্প বেছে নেওয়া পরিবেশের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হবে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান।
উদ্যোক্তাদের আশা, ক্রেতাদের আগ্রহ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ‘কুঠির’ পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পকে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে মাটিসহ প্রাকৃতিক উপকরণে তৈরি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণেও তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা।
আবু সাইদ বিশ্বাস
সাতক্ষীরা
২৩/১০/২৬
০১৭১২৩৩৩২৯৯
ক্রাইম বার্তা