উচ্ছ্বাস জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে
আবু সাইদ বিশ্বাস, শনিবার (৩১ অক্টোবর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১-দলীয় জোটের ডাকা লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবির। জেলা থেকে প্রায় ৩০০টি বাস ও ট্রাকযোগে ২০ হাজারের মতো নেতাকর্মী এ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। জেলার শ্যামনগর থেকে শুরু করে সাতক্ষীরার প্রতিটি উপজেলায় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রস্তুতি ও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নেতাকর্মীরা লংমার্চের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবেন। তবে সাতক্ষীরার অধিকাংশ নেতাকর্মী খুলনার ফুলতলা মোড় ও শিববাড়ি মোড়ে জামায়াতের আমিরের লংমার্চ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
এদিকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর যাতায়াতের জন্য বাস ও অন্যান্য যানবাহন প্রস্তুত। এ কারণে শনিবার সাতক্ষীরার বিভিন্ন রুটে সাধারণ যাত্রীদের বাসসংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এমন তথ্য জানা গেছে।
লংমার্চকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাটবাজার, গ্রামগঞ্জ ও বিভিন্ন সড়কে ১১-দলীয় জোটের পোস্টার-ব্যানার দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রার্থীদের ছবি সংবলিত ব্যানার ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে শহরের বিভিন্ন এলাকা।
সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ওমর ফারুকের ছবি সংবলিত ব্যানারও শহরের বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে। পাশাপাশি ১১-দলীয় জোটের পাঁচ দফা দাবি, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে প্রচার চালানো হচ্ছে।
দলীয় প্রার্থীদের ছবি ব্যবহার করে গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন ওয়ার্ডের দেয়াল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। ব্যানার-পোস্টারের পাশাপাশি সাংগঠনিক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে লংমার্চের পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা করছেন নেতাকর্মীরা।
লংমার্চের সমর্থনে মিছিল
লংমার্চকে স্বাগত জানিয়ে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সাতক্ষীরা জেলা শহর ও বিভিন্ন এলাকায় মিছিল করেছেন জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সাংগঠনিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। সব মিলিয়ে লংমার্চকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, লংমার্চ সফল করতে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের বিজয়ের পর গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত লংমার্চেও জেলার বিপুর সংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন বলে তাঁরা আশাবাদী। লংমার্চে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সভা সমাবেশ সভার করার অধিকার আছে এই হিসাবে বিরোধীদল তার গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা করবে এটাই স্বাভাবিক এখানে এখানে সরকার সহযোগিতা করবে এমনটা আশা করছেন তিনি।
এদিকে শনিবার বিপুলসংখ্যক যানবাহন লংমার্চের উদ্দেশে যাত্রা করলে সাতক্ষীরার অভ্যন্তরীণ সড়ক ও গণপরিবহন চলাচলে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, সেদিকে নজর থাকবে সাধারণ যাত্রীদের।
লংমার্চ সফল করতে গত এক সপ্তাহ ধরে সাতক্ষীরা জেলা শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলে মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এ প্রচারণা পরিচালনা করা হচ্ছে। মাইকিংয়ের পাশাপাশি পোস্টার, ব্যানার ও অন্যান্য প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে লংমার্চে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব প্রচারণা ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
আবু সাইদ বিশ্বাস
সাতক্ষীরা
৩০/১০/২৬
ক্রাইম বার্তা