বাইক কেনার আগ্রহ দেখিয়ে প্রতারণা, সাতক্ষীরায় ট্রাফিক পুলিশের ছেলেকে গণপিটুনি

সাতক্ষীরায় ফেসবুকে মোটরসাইকেল কেনার আগ্রহ দেখিয়ে চালিয়ে পরীক্ষা করার কথা বলে বাইক নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে এক কিশোরকে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে শহরের এপেক্স জুতার শোরুমের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আটক কিশোরের নাম সিয়ামউর রহমান (১৫)। সে সাতক্ষীরা ট্রাফিক পুলিশে কর্মরত টিএসআই (ট্রাফিক সাব-ইন্সপেক্টর) শফিকুল ইসলামের ছেলে। সে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইশরাক ও অনিক নামের দুই যুবক ফেসবুকে ইয়ামাহা আর১৫ মডেলের একটি মোটরসাইকেল বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। পরে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিয়ামউর। গত ১৬ অক্টোবর সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এল্লারচর এলাকায় মোটরসাইকেলটি দেখতে যায় সে। এ সময় চালিয়ে পরীক্ষা করার কথা বলে বাইকটি নিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন বিক্রেতারা।

এ ঘটনার নয় দিন পর শহরের একতা ক্লিনিকের সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সেটি প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই শফিকুল ইসলাম ছেলেকে নিয়ে শহরের এপেক্স জুতার শোরুমে জুতা কিনতে যান। সেখানে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত সিয়ামকে শনাক্ত করেন ভুক্তভোগী ইশরাক ও অনিক। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে তাকে আটক করেন এবং মারধর করেন।

সাতক্ষীরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিয়ামকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। সে পুলিশ পরিবারের সন্তান হলেও তার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

About news-admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *