তদবিরের জন্য এমপির বাড়িতে জুতো ক্ষয় করার দিন শেষ: তালায় অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: জনগণের তদবির বা সুপারিশের জন্য এমপির বাড়িতে হাঁটতে হাঁটতে জুতো ক্ষয় করার নীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই। আমরা জনগণের ওপর মাতবারী বা দাদাগিরি করতে আসিনি, বরং মানুষের খেদমত করতে এসেছি। খোঁজাখুঁজি করে যেখানে প্রকৃত প্রয়োজন, সেখানেই সরকারি উন্নয়ন ও বরাদ্দ পৌঁছে দেওয়া হবে।শুক্রবার (৩ জুলাই ) বিকেল ৫টায় সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এ সব কথা বলেন। খেশরা ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যের শুরুতে এমপি ইজ্জত উল্লাহ এলাকার আইন-শৃঙ্খলা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, “পুলিশের আগের ভূমিকা যাই থাক, এখন তারা জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ করছে। আমি তাদের খোঁজখবর নিই। কিন্তু প্রশাসন বা পুলিশে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। ইতিমধ্যে দুর্নীতির দায়ে একজনকে বদলি করা হয়েছে। সরকারি দপ্তর বা ঠিকাদারি কাজে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর পেলে সরাসরি আমাকে জানাবেন, আমরা সম্মিলিতভাবে লড়াই করব।”

উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইতিমধ্যে এলাকায় রাস্তাঘাটের জন্য ৩০ কোটি টাকার একটি বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা ২৫-৩০টি ইউনিয়নে বণ্টন করা হয়েছে। তবে বর্তমান বাজারে এক কিলোমিটার কার্পেটিং রাস্তা করতেই প্রায় এক কোটি টাকা লেগে যায়। এলাকার রাস্তাঘাটের যে করুণ দশা আমি দেখেছি, তাতে আগামী ৫ বছরের মধ্যে এত বিশাল কাজ সম্পন্ন করতে পারব কিনা—তা নিয়ে আমি চিন্তিত। তবে আমি কথা দিচ্ছি, শেষ দিন পর্যন্ত সংসদ ও সচিবালয়সহ সব জায়গায় আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।” ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে মসজিদ এবং প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মন্দির সংস্কারের বাজেট ইতিমধ্যে পাস হয়েছে। এছাড়াও স্বশরীরে পরিদর্শনের পর কোনো আবেদন ছাড়াই স্থানীয় সানাপাড়া মসজিদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ৩ লক্ষ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন তিনি।

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে এলাকার ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আসন্ন নির্বাচনে আমরা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ডাক্তার মাহমুদুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে অধ্যাপক গাজী সুজায়েত আলী এবং খেশরা ইউনিয়নে আলী হোসাইনকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছি। তবে আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, এদের চেয়েও যদি কোনো ভালো, সৎ ও যোগ্য লোক আপনারা পান, তবে তাকেই ভোট দেবেন। কারণ জনপ্রতিনিধি ভালো না হলে ওপর থেকে আমি যতই বরাদ্দ আনি না কেন, তারা সব ‘মারিং-কাটিং’ করে নিজেদের পকেটে ঢুকিয়ে ফেলবে।”

জনগণের সাথে যোগাযোগের সুবিধার্থে নিজের ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে তিনি তাঁর (পিএ ) এর বাইল নম্বর সংগ্রহে রাখার পরামর্শ দেন এবং বলেন, “আমি এমপি থাকি আর না থাকি, মৃত্যু পর্যন্ত আপনাদের খাদেম হিসেবে কাজ করে যেতে চাই।” সাংবাদিক ও ভিন্নমতের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সবাই আমার কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। এতে আমি সঠিক পথে থেকে জনগণের সেবা করার সুযোগ পাব।”

খেশরা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল গফুরের সভাপতিত্বে এবং মোহাম্মদ রিপনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন— উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, মাগুরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক আইয়ুব আলী, উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রেন্টু এবং স্থানীয় নেতা মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। সভায় এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

About news-admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *