স্টাফ রিপোটার: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ ইবাদুল ইসলামসহ অন্তত ১০ জন রক্তাক্ত আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে নগরঘাটা ইউনিয়নের পোড়ারহাট এলাকায় এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরঘাটা ইউনিয়নের দুস্থ রোগীদের সেবায় নিজের খরচে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স কেনেন আওয়ামী লীগ নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইবাদুল ইসলাম। মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাম্বুলেন্সটি উদ্বোধন করা হয়। তবে উদ্বোধনের পরপরই রাত ৯টার দিকে পোড়ারহাট এলাকায় একটি রোগী আনতে গেলে প্রতিপক্ষের সশস্ত্র ক্যাডাররা অতর্কিত হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভুক্তভোগী ইবাদুল ইসলামের অভিযোগ, নগরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মহোব্বত হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারের নেতৃত্বে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। এতে ইবাদুল ইসলাম (৪৫), স্থানীয় জামায়াত নেতা সেলিম রেজা (২৮), রাকিব অটো মিলের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম (৪৭) এবং ইবাদুল ইসলামের ছেলে রাকিব আহমেদসহ (২২) ১০ জন গুরুতর আহত হন। ইবাদুল ইসলামের দাবি, তার রাজনৈতিক ও সামাজিক জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে সাবেক চেয়ারম্যান মহোব্বত হোসেন সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এ হামলা চালিয়েছেন। এ ঘটনায় পাটকেলঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে নগরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহোব্বত হোসেন জানান, কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। পোড়ারহাটের একটি সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিককে ইবাদুল ইসলাম ব্যক্তিগত কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করায় স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানিয়েছিল, যা নিয়ে সামান্য ধস্তাধস্তি হয়েছে।
ক্রাইম বার্তা