সাতক্ষীরার গুড় পুকুরের মেলায় অনিয়ম ও কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ
#প্রতিদিন আদায় ১৩ লাখ টাকা # তাবু ভাড়া ২০ হাজার # ইটভাড়া ১০ হাজার # শৗচাগার প্রতিবার ১০ টাকা# জনদুর্ভোগ চরমে # শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি হ্রাস
স্টাফ রিপোটার: সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড় পুকুরের মেলাকে ঘিরে স্টল বরাদ্দ, তাঁবু ও ডেকোরেশন, দৈনিক জায়গার ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল এবং শৌচাগার ব্যবহারের ফি আদায় নিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। মেলায় অংশ নেওয়া ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তারা বলছেন, দফায় দফায় টাকা দেওয়ার পরও মিলছে না প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এসব অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন জুঁই হানি ফার্মের স্বত্বাধিকারী ও নারী উদ্যোক্তা নাহিদা আক্তার। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, স্টলের তাঁবুর জন্য ৭ হাজার টাকা, ডেকোরেশনের জন্য ৯ হাজার টাকা, ইটবাবদ ৫ হাজার টাকা ,দৈনিক চাঁদা বাবদ ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং তিনটি লাইটের জন্য ৩০০ টাকা দিতে হচ্ছে। এছাড়া শৌচাগার ব্যবহারের জন্য প্রতিবার ১০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে, যা ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা।
নাহিদা আক্তার ও অন্যান্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিদ্যুতের জন্য আলাদাভাবে টাকা নেওয়া হলেও সকাল ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যায় না। দিনের বড় একটি অংশ এবং রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজস্ব পুঁজি ও পরিশ্রমে ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতিতে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আচার-চাটনি ব্যবসায়ীর অভিযোগ ও বিপুল অর্থ আদায়ের হিসাব: একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আচার-চাটনির দোকানদার আব্দুস সামাদ। তাঁর স্টলের জন্য তাঁবু বাবদ ২০ হাজার টাকা, ডেকোরেশনের জন্য ১০ হাজার টাকা যা অফেরতযোগ্য জামানত হিসেবে ৩০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এছাড়া দৈনিক চাঁদা বাবদ ৪ হাজার টাকা এর মধ্যে পাঁচটি লাইটের জন্য প্রতিদিন ৫০০ টাকা দিতে হয় তাঁকে।
সূত্রমতে, ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ২০ দিনব্যাপী শুরু হওয়া এই মেলায় ছোট-বড় প্রায় ৪৩০টি স্টল রয়েছে। প্রতিটি স্টল থেকে দৈনিক ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। সে হিসেবে প্রতিদিন মেলা থেকে প্রায় ১২ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ৩০ দিনে প্রায় ৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা উত্তোলনের হিসাব পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া জামানত বাবদ প্রায় এক কোটি টাকা আদায়ের কথা জানা গেছে।
মেলায় স্থাপিত দোকানগুলোতে অনুমোদন ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যথাযথ অনুমোদন ছাড়া এমন সংযোগ ব্যবহার জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাছাড়া, মেলার কারণে পৌর এলাকার নবারুণ স্কুল, সরকারি মহিলা কলেজ ও বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়মিত চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান চলাকালীন মেলা বসায় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও হ্রাস পাচ্ছে।
মেলার বৈধতা, অর্থ আদায়ের রসিদ, দৈনিক ভাড়ার যৌক্তিকতা এবং বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ঐতিহ্যবাহী এই মেলার সুনাম রক্ষার্থে এবং ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি নিরাপদ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষপ প্রত্যাশা করছেন তারা।
ক্রাইম বার্তা