স্টাফ রিপোটার: সাতক্ষীরায় মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে এক বিএনপি নেতাকে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয়রা ওই ব্যক্তিকে গাঁজাসহ আটক করে গণধোলাই দেওয়ার পর গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করেন। অভিযুক্ত জামিল হোসেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পল্লীচিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের সাতক্ষীরা জেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে। তিনি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর এলাকার ফুলবাড়ী উত্তরপাড়ার বাসিন্দা এবং জি. এম. আব্দুর রউফের ছেলে। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গড়েরকান্দা এলাকায় বসবাস করেন। চালতেতলা বাজার এলাকায় তার একটি গ্রাম্য চিকিৎসাকেন্দ্র আনোয়ারা ক্লিনিক পরিচালনা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসাসেবার আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার অভিযোগ ওঠার পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম বলেন, “তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ ছিল। এলাকার তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাকে গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।”
এ বিষয়ে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি বলেন, মাদক একটি সমাজবিধ্বংসী ব্যাধি। এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তারা মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এইক দিন সাতক্ষীরা পৌরসভার ৫ নম্বর ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গড়েরকান্দা ও ইটাগাছা এলাকায় মাদকবিরোধী বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী। শুক্রবার জুমার নামাজের পর গড়েরকান্দা-ইটাগাছা সম্মিলিত জামে মসজিদের মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ কর্মসূচি পালন করেন। বিক্ষোভ চলাকালে স্থানীয়দের দাবি, সাতক্ষীরা চালতেতলা বাজারের ‘ব্যস্ত ডাক্তার’ নামে পরিচিত মো. মামুনুর রহমান খান ওই এলাকায় মাদক কিনতে এলে উপস্থিত জনতা তাকে আটক করে মারধর করেন।
তবে এ বিষয়ে ব্যস্ত ডাক্তার ও মাদক সেবী জামিল হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মুঠো ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
ক্রাইম বার্তা