সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: জেলা যুবদলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগ -যুবলীগের চুরিকাঘাতে যুবক নিহত হয়েছে। নিহত যুবক জাকারিয়া খান সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া এলাকার রুচিরা বেকারির মালিক আব্দুল গফুর খানের ছেলে। তিনি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের সঙ্গীতা মোড় এলাকার জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পৌর ৭ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মুহিদ হাসান রনিকে আটক করেছে পুলিশ।
শহরের সঙ্গীতা মোড় এলাকার প্রাণী সম্পদ অফিসের প্রধান ফটকের চায়ের দোকানদার রবিউল ইসলাম জানান, শুক্রবার বিকেলে থেকে প্রাণী সম্পদ অফিস মোড়ে যুবদল ও ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা শুরু হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে শহরের ৭নং ওয়ার্ডের ইটাগাছার মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে কিশোর গ্যাং এর সদস্য ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি নাহিদ ইসলাম ও তার অপর ভাই ছাত্রলীগের সভা মুহিদ হাসান রনিসহ ৯/১০ জন তার দোকানে সিগারেট কিনতে আসে। তিনি সিগারেট দেননি। এ সময় তার ভাই লিটন হোসেন বাবুর ছেলে পল্লী মঙ্গল স্কুল এ- কলেজ থেকে পাশ করা বাপ্পি হাসান দোকানে চা বানাচ্ছিল। চায়ের বিল চাওয়াকে কেন্দ্র করে রণিসহ তার সহযোগীদের সঙ্গে বাপ্পির বচসা হয়। বাপ্পিকে তারা বেধড়ক পিটিয়ে জখম করে। এ সময় রুচিরা বেকারীর মালিকের ছেলে জাকারিয়া খান বাপ্পিককে রক্ষায় এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করায় ছাত্রলীগ নেতা রণি তাকে এলোপাতাড়ি ছুরি দিয়ে বুকে ও পেটে আঘাত করে জখম করে। জাকারিয়া ও বাপ্পিকে উদ্ধার করে রাত ১২টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফুসফুসে ছুরির আঘাত লাগায় অবস্থার অবনতি হওয়ায় জাকারিয়াকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
কাটিয়া এলাকার ইসমাইল হোসেন জানান, তার ভাইপো জাকারিয়া খান শুক্রবার রাত সোয়া ১০টার দিকে লাবণী মোড়ের নিজেদের ব্যবসায়ি প্রতিষ্ঠান রুচিরা বেকারী থেকে বের হয়ে ইটাগাছা মামার দোকানে যায়। সেখান থেকে ফেরার সময় প্রাণী সম্পদ অফিসের প্রধান ফটকের পাশে রবিউলের চায়ের দোকানে কর্মরত বাপ্পি হাসানকে কিশোর গ্যাং এর সদস্য ৭ নং ওয়াড যুবলীগের সভাপতি নাহিদ ইসলাম ও তার ভাই ছাত্রলীগের সভাপতি রনি ও তার সহযোগীদেও হাত থেকে বাঁচাতে গেলে তার বুকে ও পেটে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় জাকারিয়ার ভাই শাহারিয়ার খান বাদি হয়ে শনিবার থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক মোঃ শাহীদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শনিবার সকালে জাকারিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক মুহিদ হাসান রনি সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা এলাকার ফিরোজউদ্দিনের ছেলে এবং শহরের আলিয়া মাদ্রাসার একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
ক্রাইম বার্তা