সাতক্ষীরায় মাছ চুরি সন্দেহে মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যায় দায়ী সনাতনি ধর্মের কয়েকজন, অন্যদিকে দেবহাটায় নাস্তিক ব্লোগার শামিমকে হত্যায় দায়ী তৈহিদি জনতা নামে মুযসলিম ধর্মের অনুসারী।
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা:
সাতক্ষীরার তালা ও দেবহাটা উপজেলায় পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তালার জিয়ালা এলাকায় মাছ চুরির সন্দেহে ক্ষিতিশ মণ্ডল (৫৩) নামের এক মৎস্যঘের ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবক গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দুটি ঘটনাতেই অভিযোগের ভিত্তিতে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং সহিংসতার মাধ্যমে প্রাণহানির বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে ঘটনা দুটির সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমের মনোযোগ, সামাজিক প্রতিক্রিয়া এবং বিচার দাবি নিয়ে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোররাতে তালা উপজেলার জিয়ালা গ্রামের উত্তরখোলা বিলে বিশ্বনাথ ঘোষের মাছের ঘেরে চুরির সন্দেহে ক্ষিতিশ মণ্ডলকে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরে তাঁকে জিয়ালা শ্মশানঘাট এলাকায় নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বিশ্বনাথ ঘোষ, শিমুল ঘোষ, সমর ঘোষসহ ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), পবিত্র কোরআন ও সাহাবিদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর রাতে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে গেলে তিনি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে কয়েক দফায় মারধর করা হয় এবং এতে তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এ দুই ঘটনা ঘিরে জনপরিসরে একটি প্রশ্ন উঠেছে—কোনো হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় আলোচনায় এলে সংবাদমাধ্যম ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের প্রতিক্রিয়া কি বদলে যায়? একটি ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা হলেও অন্য ঘটনাটি ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মূল কথা হলো, ভুক্তভোগী কিংবা অভিযুক্তের ধর্ম, পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা না করে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা। কোনো পক্ষের অপরাধ আড়াল করা কিংবা অন্য পক্ষের অপরাধকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা—কোনোটিই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচয় হতে পারে না।
আবু সাইদ বিশ্বাস
সাতক্ষীরা
১৭/১০/২৬
ক্রাইম বার্তা