ডেস্ক রিপোর্ট: কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লেগে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, মধ্যে আটজনই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম আবদুল আহাদ সরকার। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। গতকাল শনিবার সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগার এ ঘটনা ঘটে। এতে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তারা হলেন ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩), পাঁচ বছর বয়সী ফাইয়াজ আহম্মেদ, নাফিজ তেহামী। বাকি দুইজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে নাফিজ তেহামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী। আর নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম ব্যাচের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। নাবিলা ও নাফিজ আবদুল আহাদ সরকারের আত্মীয়। আহাদ বলেন, পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না। আমাদের পরিবারের ছয়জন এই ঘটনায় মারা গেছেন। তাদের মধ্যে আমার চারজন মেয়ে কাজিন, একজন ছেলে কাজিন এবং আমার এক মেয়ে কাজিনের ছোট সন্তান ফাইয়াজ রয়েছে। নাফিজ ও নাবিলাও আমাদের আত্মীয়। তারা আমার মায়ের ফুফাতো বোনের পরিবারের সদস্য। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার সকাল সাতটার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর রিসোর্টের ভেতরে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর প্রতিষ্ঠানটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও রিসোর্টটির কার্যক্রম চালু ছিল। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত, নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।
ক্রাইম বার্তা