শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সাতক্ষীরায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে। এখন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চলমান তৃতীয় অধিবেশনে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুল খালেকের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এখন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনশুমারী ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী সাতক্ষীরা জেলার জনসংখ্যা ২১ দশমিক ৯৭ লাখ এবং খানার সংখ্যা ৫ দশমিক ৬৭ লাখ। এই বিপুল জনসংখ্যান জন্য স্থানীয় পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত ভিত্তিক উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্ঠি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাতক্ষীরা একটি জলবায়ু ঝুকিপূর্ণ উপকূলীয় জেলা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্ণঙ্গভাবে চালু হলে বিজ্ঞান ও প্রকৌশলী, তথ্য প্রযুক্তি ও জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ, কৃষি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণা উদ্ভাবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠার সুযোগ রয়েছে। ব্যানবেইস এর তথ্যানুযায়ী সাতক্ষীরার তালা, কলারোয়া, শ্যামনগর ও আশাশুনি চারটি উপজেরায় আইসিটি ট্রেনিং এন্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।
এছাড়াও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সাতক্ষীরা সাব রিজিউনাল সেন্টার এর অধীনে স্টাডি সেন্টার তালিভুক্ত রয়েছে। এসব তথ্য জেলার উচ্চ শিক্ষা, প্রযুক্ত নির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণে একটি বিদ্যমান ভিত্তি স্থাপন করেছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনী ভিত্তি ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ এখনো সম্পন্ন হয়নি। খুবশিঘ্রই ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করা যাবে।
্উল্লেখ্য, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত সাতক্ষীরা জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ নভেম্বর জাতীয় সংসদে ‘সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৩’ পাস হয়।
ক্রাইম বার্তা