স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা সদরের ঐতিহ্যবাহী বাবুলিয়া জেএস হাইস্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রধান শিক্ষক নাজনীন আক্তার ও বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময় দায়িত্ব পালনকারী সাবেক সভাপতি সহিদুজ্জামান (সহিদ)-কে পুনরায় সভাপতি করার জন্য চক্রান্ত চালিয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক ও সাবেক সভাপতি সহিদুজ্জামান যোগসাজশ করে এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে সহিদুজ্জামানের নাম সুপারিশ করে যশোর বোর্ডে আবেদন পাঠান। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় অভিভাবকরা যশোর বোর্ডে লিখিত অভিযোগ জানান। অভিভাবকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যশোর শিক্ষা বোর্ড ওই প্রস্তাবিত এডহক কমিটি বাতিল করে।
শিক্ষাবোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, বোর্ডে কোনো অনুমোদিত কমিটি বিদ্যমান না থাকলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পদাধিকারবলে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, ইউএনও-কে দায়িত্ব না বুঝিয়ে প্রধান শিক্ষক ও সাবেক সভাপতি সহিদুজ্জামান বেআইনিভাবে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় অভিভাবক সাদেক, কবির, জিয়ারুল, জামারুল, রফিকুল ও সাঈদসহ বেশ কয়েকজন অভিভাবক বিদ্যালয় কার্যালয়ে গিয়ে এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চান। অভিভাবকদের অভিযোগ, সভাপতি ছাড়া কীভাবে প্রতিষ্ঠান চলছে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক নাজনীন আক্তার ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, “প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়ে আমি আপনাদের কোনো কিছু জানাতে বাধ্য নই।”
এদিকে সম্প্রতি কয়েকটি অনলাইন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধান শিক্ষক নাজনীন আক্তারকে পথেঘাটে হেনস্তা, জীবননাশের হুমকি ও চাঁদা দাবির বিষয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক নিজেই।
তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে কেউ তাকে জীবননাশের হুমকি বা চাঁদা দাবি করেনি। তার নাম ব্যবহার করে ছড়ানো এমন অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
ক্রাইম বার্তা