সাতক্ষীরায় টর্নেডো ও ঘূর্ণিবায়ুর তাণ্ডব ভেঙে পড়েছে বসতঘর, উড়ে গেছে মন্দিরের চাল; খোলা আকাশের নিচে ক্ষতিগ্রস্তরা

সাতক্ষীরায় টর্নেডো ও ঘূর্ণিবায়ুর তাণ্ডব

ভেঙে পড়েছে বসতঘর, উড়ে গেছে মন্দিরের চাল; খোলা আকাশের নিচে ক্ষতিগ্রস্তরা

 

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা:

সাতক্ষীরার আশাশুনি ও সদর উপজেলায় আকস্মিক টর্নেডো ও ঘূর্ণিবায়ুর তাণ্ডবে বেশ কয়েকটি বসতঘর ও একটি ধর্মীয় উপাসনালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রবল বাতাসে ঘরের চাল ও বেড়া উড়ে যাওয়াসহ আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের উত্তর বাইনতলা গ্রামে হঠাৎ প্রচণ্ড বেগে টর্নেডো আঘাত হানে। কয়েক মিনিটের তাণ্ডবে মৃত রহিম মোল্যার ছেলে দাউদ মোল্যা, আইয়ুব আলী মোল্যা, সাহেব আলী মোল্যা ও তার ছেলে নয়ন মোল্যার চারটি কাঁচা বসতঘর লন্ডভন্ড হয়ে যায়।

 

ঝড়ের তীব্রতায় ঘরের অ্যাসবেস্টসের চাল ও বেড়া উড়ে যায়। পাশাপাশি ঘরের আসবাবপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, এতে প্রায় দুই লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

 

ক্ষতিগ্রস্ত দাউদ মোল্যা বলেন, রাতের বেলা হঠাৎ বিকট শব্দে বাতাস শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরের চাল উড়ে যায়। ঘরের আসবাবপত্রও নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের যুগিপোতা এলাকায় তীব্র ঘূর্ণিবায়ু বয়ে যায়। এতে তিনটি বসতবাড়ির চাল উড়ে যায়। একই সময়ে পার্শ্ববর্তী শুকদেবপুর এলাকার একটি প্রাচীন মন্দিরের চালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ে গাছপালা ভেঙে পড়ে কিছু সময়ের জন্য রাস্তাঘাট চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

 

ঘটনার খবর পেয়ে আশাশুনির উত্তর বাইনতলা গ্রামে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন ইউনিয়ন জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল গফুর সানা। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

যুবদল নেতা শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাৎক্ষণিকভাবে ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে কিছু সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করা হবে।

এদিকে ধুলিহরে ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে শনিবার সকালে এলাকা পরিদর্শন করেন ধুলিহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. তাকদীর আহসান রুবেল। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে লোক পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত ঘরবাড়ি মেরামত ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন।

 

আবু সাইদ বিশ্বাস

সাতক্ষীরা

২৬/৯/২৬

About news-admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *