বাসার সামনে গালিগালাজ, বিদেশ থেকে ফোন, ককটেল নিক্ষেপ—এমন আরও সমস্যা জানিয়ে নিরাপত্তা চাইলেন সাক্ষী

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষী এস এম সায়েম নিরাপত্তাজনিত নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়।

আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ এসব ঘটনা ঘটে। পরে ট্রাইব্যুনাল সাক্ষী সায়েমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে ৩ নভেম্বর ১৩তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন এস এম সায়েম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। জুলাই আন্দোলনে মিরপুর অঞ্চলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আজ তাঁকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন।

জেরা শেষে সাক্ষী ট্রাইব্যুনালের কাছে নিরাপত্তা চান। নিজের নিরাপত্তাহীনতার বিবরণ দিয়ে সাক্ষী সায়েম বলেন, তিনি মিরপুর ২ নম্বরে থাকেন। তাঁর বাসার সামনে এক ব্যক্তি তাঁকে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। বাসার সামনে অচেনা ব্যক্তিরা মোটরসাইকেল নিয়েও দাঁড়িয়ে থাকে। পরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সামনে তাঁকে লক্ষ্য করে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। একটি ককটেল তাঁর সামনে পড়ে এবং আরেকটি তাঁর থেকে প্রায় ১০ ফুট দূরে পড়ে। ককটেল ফাটিয়ে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। এ ছাড়া বাসার সামনে গিয়ে লোকজন তাঁর সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছে এবং বিদেশ থেকেও ফোন দিয়ে গালাগালি করা হচ্ছে।

সাক্ষীর কথা শুনে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। সবারই দায়িত্ব আছে। যাঁরা আইন ভঙ্গ করেছেন, তাঁদের বেঁধে ফেলার দায়িত্ব সবার।’

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, তাঁর মক্কেলরা তো কারাগারেই আছেন। এই সাক্ষী এত দিন সাক্ষ্য দিলেন, তখন কোনো অভিযোগ করলেন না; আজ তাঁর সাক্ষ্য শেষ হওয়ার পর নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুললেন।

এরপর ট্রাইব্যুনাল দুপুরের বিরতিতে যান। পরে বেলা আড়াইটায় আদালতের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন দিয়ে সাক্ষী সায়েমের নিরাপত্তা চাওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল জানান, এই সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এতটুকু হলেই চলবে।

About news-admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *