সাতক্ষীরায় লিগ্যাল এইডের ১৬০০ টাকার বিলে ৫০০ টাকা ঘুষ দাবি

ক্রাইমবাতা রিপোট:  সরকারি সহায়তায় অসচ্ছল ও অসহায় বিচারপ্রার্থীদের আইনি সেবা দিতে জেলা লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম চালু রয়েছে। কিন্তু সেখানেও ঘুষ আর হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরায় লিগ্যাল এইডের প্যানেলভুক্ত এক আইনজীবীর ১ হাজার ৬০০ টাকার বিল পাস করে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০০ টাকা ঘুষ দাবি এবং ১০ দিনে একাধিকবার বার ঘুরিয়ে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পেশকার শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে।

এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ পেশকারের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম (জীবন)।

অভিযোগপত্রে অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জজকোর্ট সাতক্ষীরায় দক্ষতার সাথে মামলা পরিচালনা করছেন এবং সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেল আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ট্রাইব্যুনালে তার পরিচালনাধীন ‘নাঃ শিঃ ২০৯/২১’ নম্বর মামলাটি ১৬ জুন ২০২৫ তারিখে নিষ্পত্তি হয়। বিধি অনুযায়ী, ওই মামলা পরিচালনাবাবদ তার প্রাপ্য ১ হাজার ৬০০ টাকার বিল সাবমিট করতে গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তিনি পেশকার শামীম আহমেদের নিকট যান। বিল জমা দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় ভোগান্তি। পেশকার শামীম আহমেদ প্রথমে জানান, মামলার নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, বাবলুকে দিয়ে নথি বের করাতে হবে। নথি উদ্ধারের দোহাই দিয়ে ‘বাবলু’ নামের এক ব্যক্তি ওই আইনজীবীর কাছে ২০০ টাকা দাবি করেন।

আইনজীবী জানান বিল তুলে টাকা দেবেন। এরপরই সরাসরি পেশকার শামীম আহমেদ নিজ মুখেই ৫০০ টাকা ঘুষ দাবি করেন। আইনজীবী বিলের টাকা পাওয়ার পর ঘুষের টাকা দেবেন বললে পেশকার তাকে টানা ১৫ দিন ঘোরাতে থাকেন। টানা ১৫ দিন ঘোরানোর পর পেশকার শামীম ওই আইনজীবীকে কল দিতে বলেন। আইনজীবী তার ০১৭১২-৬২৭৩৭৯ নম্বরে ফোন করলে পেশকার অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বলেন, এখন ফোন দিলেন কেন? আপনার সহকারীকে পাঠাবেন। পরদিন সকালে আইনজীবীর সহকারী সেলিম পেশকারের কাছে গেলে তাকে আবার বিকেলে আসতে বলা হয়।

আইনজীবীর লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি গত ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সর্বমোট ১০ দিনে ১০ বার পেশকারের দরজায় কড়া নাড়েন। সেখানে বারবার জানতে চাওয়া হয় নিয়োগপত্র কোথায়, কী কাজ করেছেন তার প্রমাণ ইত্যাদি। আইনজীবী সব কাগজ বের করে দেখালে পেশকার জানান, সেদিনই বিচারকের (স্যার) সই করিয়ে দেবেন।

কিন্তু পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর পুনরায় গেলে পেশকার আবার বিকেলে যেতে বলেন। বিকেলে গেলে নতুন করে কাগজপত্র ফটোকপি করে জমা দিতে বলা হয়। সহকারীকে দিয়ে সমস্ত কাগজ ফটোকপি করিয়ে জমা দেওয়া হলেও অদ্যাবধি বিল মেলেনি, মিলছে শুধুই হয়রানি।

লিখিত অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করে অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম (জীবন) বলেন, পেশকার শামীম আহমেদ একজন চিহ্নিত ঘুষখোর কর্মচারী। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে একাধিক ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি লিগ্যাল এইডের সামান্য টাকার বিলেও যখন কর্মচারী পর্যায়ে এভাবে প্রকাশ্যে ঘুষ চাওয়া হয়, তখন সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে কতটা বঞ্চিত হয় তা সহজেই অনুমেয়।

সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি আরও বলেন, তদন্ত সম্পন্ন করে এমন ঘুষখোর পেশকার শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে যেন উপযুক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় আমি সেই প্রার্থনাই করছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পেশকার শামীম আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগটি সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা। আপনি প্রয়োজনে জীবন ভাইকে নিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করেন, তাহলে বিষয়টি ক্লিয়ার হবেন।

About news-admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *